মেনু নির্বাচন করুন

---------- অধ্যক্ষ



অধ্যক্ষ  বাণী

মহাকালের করাল গ্রাসে একদিন সবকিছুই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে তথাপি আমরা (মানুষেরা) প্রাসাদ তৈরী করি, অগ্রসর সমাজ বিনির্মাণের জন্য ঘাম ঝরায় কারণ তা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই করতে হয়। যদিও জানি একদিন সবকিছুই কালের স্রোতে বিলীন হয়ে যাবে তবুও মানবজীবনে থেমে থাকার সুযোগ নেই, নেই কোন সুযোগ আত্মসমর্পণের। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ জেলার পশ্চিম উত্তরে ছায়াঘেরা পাখি-ডাকা, বন-বনানীর এক নান্দনিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমাদের দাদপুর জি আর ডিগ্রি কলেজ। যার পূর্ব দিক দিয়ে বয়ে চলেছে করতোয়া (ফুলজোড়) নদী। আর পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে মহাসড়ক (ঢাকা-বগুড়া) যেটি বাংলাদেশের উত্তর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে।

দাদপুর জি, আর ডিগ্রি কলেজটি সিরাজগঞ্জ জেলা এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সমূহে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ১৯৯৮ খ্রি: আলহাজ্ব অধ্যক্ষ জিল্লুর রহমান স্যারের অক্লান্ত ও অন্তহীন প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত করেন অত্র প্রতিষ্ঠানটি। তিনি যে জ্ঞান প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন তা অনেক শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগীদের অবিরাম পরিশ্রমে পুষ্পে সুশোভিত হয়ে মহীরূহের রূপধারণ করেছে। বর্তমানে এ কলেজের কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। স্নাতক (পাস) কোর্স, উচ্চমাধ্যমিক বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা, মানবিক বিভাগ এবং এইচ.এস.সি (ব্যবসায় -ব্যবস্থাপনা) বিভাগ চালু আছে।

একজন শিক্ষার্থীকে দায়িত্বশীল, সৎ চরিত্রবান, দক্ষ ও সৃজনশীল করে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হচ্ছে দাদপুর জি. আর ডিগ্রি কলেজের স্বপ্ন এবং তার বাস্তবায়ন। শুধু পাঠ্যশিক্ষায় নয়, শিক্ষার্থীর শারিরীক মানসিক উন্নয়ন সহ সামাজিক মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে কলেজটি নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছে।

কলেজটি স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তা বেড়ে বর্তমানে ১১৩০ জন শিক্ষার্থী, এবং ৭৬ জন শিক্ষক কর্মচারীতে উন্নীত হয়েছে। অবকাঠামোগত দিক দিয়ে তেমন উন্নতি না ঘটলেও আগামীতে প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের ক্ষেত্রে শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

দাদপুর জি. আর ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠায় অত্র এলাকার যে সকল মহাপ্রাণ ও জ্ঞান পিপাসু ব্যক্তিবর্গ অবদান রেখেছেন আমি তাঁদেরকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

সৌহার্দের সেতুবন্ধন 'স্মৃতির দর্পণ' প্রকাশে বাণী প্রদান করায় জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মহিলা ভাইস- চেয়ারম্যান, সভাপতি, প্রতিষ্ঠাতা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ইউ.পি চেয়ারম্যান মহোদয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কলেজের সুযোগ্য শিক্ষক কর্মচারীদের অক্লান্ত সহযোগিতা ছাড়া আজকের এই স্মরণিকা প্রকাশ করা সম্ভব হতো না। এজন্য সকলকে জানাচ্ছি আমার শুভ কামনা ও অভিনন্দন।

এই মহতী উদ্যোগে স্বল্প সময়ে যাঁদের শ্রম ও পৃষ্ঠপোষকতায় 'স্মৃতির দর্পণ' ৩য় সংখ্যা প্রকাশিত হলো সেই কলেজ পরিচালনা পর্ষদ, সম্পাদনা পর্ষদ ও বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রী সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

দাদপুর জি. আর ডিগ্রি কলেজ দীর্ঘজীবী হোক।